জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও সংঘাতের ধাক্কায় তিন দফায় সময় বাড়ানোর পর ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। আগের করবর্ষে ৪৩ লাখেরও বেশি রিটার্ন জমা পড়েছিল। দেশে অবশ্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেয়া ব্যক্তির সংখ্যা এর অনেক বেশি। টিআইএন থাকলে রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক হলেও অনেকে তা জমা দেন না।
গতকাল ২০২৪-২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার বর্ধিত সময়ের শেষ দিন ছিল। গতকাল আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এক প্রশ্নে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘টাইম আর বাড়বে না। এটা আজকেই শেষ করছি।’
কত রিটার্ন জমা পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সকালে দেখলাম এটা (অনলাইনে জমা) ১৪ লাখ ১০ হাজার। আমার ধারণা, এটা ১৪ লাখ ৩০-৩৫ হাজার ক্রস করবে আজকের মধ্যে। আর পেপার রিটার্ন মিলে আমার ধারণা, ৩৭-৩৮ লাখ হয়তো হবে। এক্সাক্ট ফিগারটা পাওয়া যাবে কাল (সোমবার)।’
এদিকে, যেসব দোকানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) ও সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) থাকার পরও ভোক্তাকে ভ্যাট চালান দেয়া হয় না, সেসব দোকানে ভ্যাট অফিসারদের সপ্তাহ ধরে পাহারা দিতে বলেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
গতকাল এনবিআর ভবনে বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ আমদানি উৎসাহিতকরণ ও স্বর্ণ নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কর্মপন্থা নির্ধারণবিষয়ক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি) ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘দেশে আসা স্বর্ণের বেশির ভাগই পাচার হয়ে যায়। ভ্যাট চালানের জন্য আমরা ভ্যাট অ্যাপস চালু করব। এটি মোবাইল, ল্যাপটপ ও ট্যাবে ব্যবহার করা যাবে।’
এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘এনবিআর ভ্যাটদাতা ও ভ্যাট সংগ্রহকারী উভয়ের জন্যই পুরস্কারের ব্যবস্থা করবে।’
সভায় বাজুসের জেনারেল সেক্রেটারি বাদল চন্দ্র রায়, সহসভাপতি রিপনুল হাসান ও মাসুদুর রহমান প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।